# আজানের অর্থ: বাক্য ও অনুবাদ | QiblaFind

আজানের অর্থ ও প্রতিটি বাক্যের বাংলা অনুবাদ জানুন। ইকামত কখন দেওয়া হয়, আজান শুনে কী বলা হয় এবং নামাজের সময়ের সঙ্গে এর সম্পর্ক বুঝুন।

আজান নামাজের সময় হওয়ার ঘোষণা। এর বাক্যগুলোর অর্থ, ইকামতের সঙ্গে পার্থক্য এবং আজান শুনে প্রচলিত জবাব কী, তা জানুন।

Published: 2026-09-25 | Updated: 2026-10-01

Canonical: https://qiblafind.net/bn/blog/adhan-and-prayer-times

**আজান** (আধান) হলো ইসলামে নামাজের ডাক। এটি নির্ধারিত নামাজের সময় শুরু হওয়ার কথা জানায় এবং মানুষকে ইবাদতের দিকে আহ্বান করে। আজানের অর্থ তাই ব্যবহারিক ও আধ্যাত্মিক—এর বাক্যগুলো আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা করে, বিশ্বাসের সাক্ষ্য দেয় এবং নামাজের দিকে ডাকে।

## আজান কী?

যিনি আজান দেন, তাঁকে *মুয়াজ্জিন* বলা হয়। মুসলিমরা মসজিদ থেকে আজান শোনেন; একসঙ্গে নামাজ পড়ার আগেও কেউ আজান দিতে পারেন। কুরআনে নামাজের ডাকের উল্লেখ আছে, যার মধ্যে জুমার নামাজের ডাকও রয়েছে (Al-Jumu‘ah 62:9)।

আজান দিয়ে নামাজ শুরু হয় না; আজান নামাজের সময় হওয়ার ঘোষণা। *ইকামত* হলো অপেক্ষাকৃত সংক্ষিপ্ত ডাক, যা জানায় যে জামাতে নামাজ—অর্থাৎ একসঙ্গে নামাজ—শুরু হতে যাচ্ছে।

## আজানের সূচনা

আজানের সূচনা নিয়ে বর্ণনাগুলোতে প্রাথমিক মুসলিম সমাজের একটি বাস্তব প্রশ্ন উঠে আসে: নামাজের জন্য সবাইকে কীভাবে ডাকা হবে? সুনান আবি দাউদের একটি বর্ণনায় আছে, আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ স্বপ্নে আজানের ডাক দেখেন এবং নবী মুহাম্মদ ﷺ তাঁকে তা বিলালকে শেখাতে বলেন (Abu Dawud 512; graded weak by al-Albani)। সহিহ আল-বুখারির পৃথক একটি বর্ণনায় আছে, নামাজের জন্য মানুষকে কীভাবে ডাকা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল; এরপর নবী ﷺ বিলালকে আজান দিতে নির্দেশ দেন (Bukhari 604)।

বিলাল একজন প্রাথমিক যুগের মুসলিম এবং নবীর মুয়াজ্জিন হিসেবে স্মরণীয়। স্বপ্নটিকে সবার জন্য স্বতন্ত্রভাবে ইবাদতের নিয়ম নির্ধারণের উৎস হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি; বর্ণনা অনুযায়ী, নবী ﷺ বাক্যগুলো অনুমোদন করে বিলালকে তা ঘোষণা করতে বলেন।

## আজানের অর্থ: বাক্যগুলোর বাংলা অনুবাদ

নিচে সুন্নি আজানের পরিচিত বাক্যগুলো দেওয়া হলো। **আল্লাহ** হলো ‘God’-এর আরবি শব্দ; *সালাহ* বলতে নির্ধারিত নামাজ বোঝায়। বিভিন্ন ধারায় বাক্য পুনরাবৃত্তির সংখ্যা ও কিছু শব্দের ব্যবহারে পার্থক্য আছে।

1. **আল্লাহু আকবার** — “আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।” এ বাক্য দিয়ে আজান শুরু হয় এবং এটি পুনরাবৃত্তি করা হয়।
2. **আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ** — “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।”
3. **আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ** — “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল।”
4. **হাইয়া আলাস সালাহ** — “নামাজের দিকে এসো।”
5. **হাইয়া আলাল ফালাহ** — “সাফল্যের দিকে এসো।” এখানে *ফালাহ* বলতে আল্লাহর দিকে ফেরার মাধ্যমে কল্যাণ ও সাফল্য বোঝায়।
6. **আল্লাহু আকবার** — “আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।”
7. **লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ** — “আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।”

নামাজ ও সাফল্যের দিকে এই ডাক আমন্ত্রণ; এর মানে নয় যে শ্রোতারা ইতিমধ্যে মসজিদে আছেন। নামাজ শুরুর আগে বাক্যগুলো বিশ্বাসের কথা মনে করিয়ে দেয়।

### ফজরের আজানে বাড়তি কী বলা হয়?

*ফজর* হলো ভোরের নামাজ। পরিচিত সুন্নি আজানে **আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম** — “নামাজ ঘুমের চেয়ে উত্তম”—বলা হয়। “সাফল্যের দিকে এসো” বাক্যের পরে এটি দুবার বলা হয়। ভোরের এই ডাকের সময় অনেক শ্রোতা ঘুমিয়ে থাকতে পারেন।

### জাফরি আজানে কী পার্থক্য আছে?

জাফরি শিয়া রীতিতে আজানে **হাইয়া আলা খাইরিল আমাল** — “সর্বোত্তম কাজের দিকে এসো”—বাক্যটি থাকে। অনেক শিয়া মুয়াজ্জিন **আশহাদু আন্না আলিয়্যান ওয়ালিয়্যুল্লাহ**-ও বলেন, যার মাধ্যমে আলীর সঙ্গে আল্লাহর বিশেষ সম্পর্কের কথা স্বীকার করা হয়। জাফরি আলেমরা সাধারণত এই স্বীকৃতিকে আজানের আবশ্যক বাক্যগুলো থেকে আলাদা করে দেখেন।

সুন্নি ফজরের আজানের “নামাজ ঘুমের চেয়ে উত্তম” বাক্যটি সাধারণত জাফরি আজানের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয় না। এগুলো ইবাদতের প্রচলিত রীতির পার্থক্য। স্থানীয় কোনো জামাতে যোগ দিলে সেখানকার প্রতিষ্ঠিত আজান অনুসরণ করতে পারেন।

## ইকামত কী?

জামাতে নামাজ শুরুর ঠিক আগে *ইকামত* দেওয়া হয়। এটি আজানের মতো, তবে এতে **কাদ কামাতিস সালাহ** — “নামাজ শুরু হয়েছে”—বাক্যটি যোগ হয়। বিভিন্ন মাজহাব ও সমাজে এর শব্দ এবং বাক্যগুলো কতবার বলা হয়, তা ভিন্ন হতে পারে।

আজান জানায় নামাজের সময় হয়েছে; ইকামত জামাতকে নামাজের জন্য প্রস্তুত হতে জানায়। আজান শুনেই জামাত শুরু হয়ে গেছে ধরে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

## আজান শুনলে কী বলা হয়?

নবী ﷺ-এর একটি পরিচিত নির্দেশনা হলো মুয়াজ্জিন যা বলেন, তা পুনরাবৃত্তি করা (Sahih al-Bukhari 611)। মুসলিমে বর্ণিত একটি হাদিসে আছে, **হাইয়া আলাস সালাহ** ও **হাইয়া আলাল ফালাহ** শুনে শ্রোতা বলেন **লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ** — “আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই” (Sahih Muslim 385)।

এরপর অনেক মুসলিম নবী ﷺ-এর প্রতি দরুদ—অর্থাৎ তাঁর জন্য আশীর্বাদ প্রার্থনা—পড়েন এবং *দোয়া* করেন, অর্থাৎ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। ফজরের বিশেষ বাক্যের জবাবসহ কিছু রীতি সুন্নি ও শিয়া সমাজে ভিন্ন হতে পারে। শিখতে শুরু করলে মন দিয়ে শোনা এবং জানা বাক্যগুলো পুনরাবৃত্তি করা সহজ একটি শুরু; নিজের সমাজের রীতি সম্পর্কে বিশ্বস্ত স্থানীয় ইমাম বা আলেমকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।

## নামাজের সময়ের সঙ্গে আজানের সম্পর্ক কী?

প্রতিদিনের প্রতিটি নামাজের নির্ধারিত সময় আছে। আজান সেই সময় শুরু হওয়ার ঘোষণা দেয়; আজান দেওয়ার মাধ্যমে সময় শুরু হয় না। নামাজের সময়সূচি সূর্যের অবস্থান ও হিসাবের পদ্ধতি ব্যবহার করে তৈরি হয়। তাই স্থান ও পদ্ধতিভেদে দেখানো সময়ে পার্থক্য থাকতে পারে।

দিনের পরিকল্পনার আগে [আপনার এলাকার আজকের নামাজের সময়](https://qiblafind.net/bn/prayer-times) দেখে নিতে পারেন। মসজিদের আজানের সময় কোনো অ্যাপে দেখানো সময় থেকে সামান্য আলাদা হলে, একটি ঘড়ি ভুল ধরে নেওয়ার আগে মসজিদের সময়সূচি ও অ্যাপের সেটিংস মিলিয়ে দেখুন। [নামাজের সময়ের নোটিফিকেশন](https://qiblafind.net/bn/notifications) নির্ধারিত সময় হলে মনে করিয়ে দিতে পারে; এটি আপনার স্থানীয় মসজিদের আজানের সরাসরি সম্প্রচার নয়।

>
> **[নামাজের সময়সূচি](https://qiblafind.net/bn/prayer-times)**
>
> অবস্থান বেছে নিয়ে আজকের ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব, এশার সময় ও সূর্যোদয় দেখুন। গণনাপদ্ধতি ও আসরের সেটিং স্থানীয় মসজিদের সময়সূচির সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

>
> **[নোটিফিকেশন](https://qiblafind.net/bn/notifications)**
>
> আপনার দেওয়া অবস্থানের জন্য ব্রাউজারে নামাজের সময়ের অনুস্মারক চালু করুন। অনুস্মারকগুলো সাইটের ডিফল্ট গণনা সেটিংস ব্যবহার করে। ব্রাউজারের অনুমতি, ডিভাইসের সেটিংস ও পুশ সেবার উপলব্ধতার ওপর অনুস্মারক পৌঁছানো নির্ভর করে।

নামাজের জন্য *কিবলা*—[মক্কার কাবার দিক](https://qiblafind.net/bn/blog/understanding-qibla)—জানারও প্রয়োজন হতে পারে। QiblaFind-এর [লাইভ কিবলা কম্পাস](https://qiblafind.net/bn/qibla-finder) সেই দিক খুঁজতে সাহায্য করে।

## সাধারণ প্রশ্ন

### ‘আজান’ শব্দের অর্থ কী?

*আজান* মানে ঘোষণা বা ডাক। ইসলামে এটি নামাজের সময় হওয়ার ঘোষণা এবং মানুষকে নামাজের দিকে আহ্বান করার মৌখিক ডাক।

### আজানই কি নামাজ?

না। নামাজের আগে আজান দেওয়া হয়। জামাতে নামাজ শুরু হওয়ার ঠিক আগে ইকামত দেওয়া হয়।

### প্রত্যেক নামাজের জন্য কি আজান দেওয়া হয়?

আজান দৈনিক পাঁচটি নির্ধারিত নামাজের সঙ্গে সম্পর্কিত। একা নামাজ পড়া, বাদ পড়া নামাজ আদায় করা বা জামাতে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আজান দেওয়ার রীতি মাজহাবভেদে ভিন্ন হতে পারে। নিজের পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বস্ত স্থানীয় ইমাম বা আলেমের পরামর্শ নিন।

### ফজরের আজানে ঘুমের কথা কেন বলা হয়?

ফজরের সময় ভোরে শুরু হয়, যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকতে পারেন। পরিচিত সুন্নি আজানের “নামাজ ঘুমের চেয়ে উত্তম” বাক্যটি শ্রোতাদের সেই নামাজের জন্য উঠতে আহ্বান করে।

### আজান শুনতে না পেলে নামাজের সময়ের নোটিফিকেশন কি কাজে আসে?

হ্যাঁ, বিশেষ করে মসজিদের আজান শোনা না গেলে নোটিফিকেশন নির্ধারিত নামাজের সময় জানাতে পারে। তবে এটি আজান নয়, কেবল মনে করিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা। আপনার অবস্থান ও নামাজের সময়সংক্রান্ত সেটিংস ঠিক আছে কি না দেখে নিন।
