# ইস্তিখারার নামাজ: নিয়ম, দোয়া ও এরপর করণীয়

ইস্তিখারার নামাজ পড়ার নিয়ম, দোয়া ও এরপর করণীয় জানুন। দুই রাকাত নফল নামাজের পর বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন; স্বপ্নের অপেক্ষা জরুরি নয়।

কোনো সিদ্ধান্তে আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাইতে ইস্তিখারা করা হয়। দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে দোয়া করুন, তারপর বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিন।

Published: 2026-09-25 | Updated: 2026-10-01

Canonical: https://qiblafind.net/bn/blog/istikhara

ইস্তিখারার নামাজ হলো কোনো সিদ্ধান্তের মুখে আল্লাহর কাছে কল্যাণকর পথ চাওয়ার উপায়। এতে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে নবী মুহাম্মদ ﷺ শেখানো দোয়া করা হয়। এরপর সিদ্ধান্ত নিতে স্বপ্ন দেখার অপেক্ষা জরুরি নয়।

## ইস্তিখারা মানে কী

*ইস্তিখারা* (istikhara) মানে আল্লাহর কাছে নিজের জন্য উত্তম বিষয়টি বেছে দেওয়ার প্রার্থনা। চাকরি, বাসস্থান বদল বা বিয়ের প্রস্তাবের মতো বৈধ বিষয়ে, যেখানে আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আছে, ইস্তিখারা করা যায়। এটি কোনো ফরজ দায়িত্বের বিকল্প নয়; নিষিদ্ধ কাজকেও বৈধ করে না।

নবী ﷺ-এর সাহাবি জাবির ইবন আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, নবী ﷺ তাঁর সাহাবিদের বিভিন্ন বিষয়ে ইস্তিখারা শেখাতেন। তিনি ফরজ নামাজের বাইরে দুই রাকাত পড়তে, তারপর বিষয়টির কল্যাণ চেয়ে ও অকল্যাণ থেকে রক্ষা চেয়ে দোয়া করতে শিখিয়েছেন (Sahih al-Bukhari 6382)।

## ইস্তিখারার নামাজ কীভাবে পড়বেন

*রাকাত* (rak‘ah) হলো নামাজের একটি একক। সাধারণ ধাপগুলো হলো:

1. কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা নির্দিষ্ট করুন।
2. ফরজ নামাজ থেকে আলাদা করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ুন।
3. নামাজ শেষে ইস্তিখারার দোয়া পড়ুন। দোয়ায় ‘এই বিষয়টি’ বলার জায়গায় নিজের সিদ্ধান্তটি মনে আনুন বা উল্লেখ করুন।
4. জানা তথ্য বিবেচনা করুন, প্রয়োজন হলে বিশ্বস্ত মানুষের পরামর্শ নিন, তারপর যুক্তিসংগত পরবর্তী পদক্ষেপ নিন।

জাবিরের বর্ণনায় দুই রাকাতের পর দোয়া করার কথা এসেছে। এ নামাজে কুরআনের নির্দিষ্ট কোনো সুরা পড়া জরুরি নয়। সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনও ভাবতে থাকলে আবার ইস্তিখারা করতে পারেন; নির্দিষ্ট সংখ্যক বার করতেই হবে, এমন মনে করার প্রয়োজন নেই।

## ইস্তিখারার দোয়া

*দোয়া* (dua) মানে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা—নিজের ভাষায় কিংবা কুরআন ও সুন্নাহয় শেখানো ভাষায়। নিচে জাবিরের বর্ণনায় থাকা দোয়াটির বাংলা হরফে উচ্চারণ দেওয়া হলো (Sahih al-Bukhari 6382)। আরবি ধ্বনি বাংলা হরফে লেখার ধরন ভিন্ন হতে পারে।

**[الدعاء بالعربية — صحيح البخاري ١١٦٦](https://sunnah.com/bukhari:1166)**

> **اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ.**
>
> **اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي — أَوْ قَالَ: عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ — فَاقْدُرْهُ لِي، وَيَسِّرْهُ لِي، ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ.**
>
> **وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي — أَوْ قَالَ: فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ — فَاصْرِفْهُ عَنِّي، وَاصْرِفْنِي عَنْهُ، وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ أَرْضِنِي بِهِ.**

> **আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্তাখিরুকা বি-ইলমিকা, ওয়া আস্তাকদিরুকা বি-কুদরাতিকা, ওয়া আসআলুকা মিন ফাদলিকাল আজিম। ফা-ইন্নাকা তাকদিরু ওয়া লা আকদির, ওয়া তালামু ওয়া লা আলাম, ওয়া আনতা আল্লামুল গুয়ুব।**
>
> **আল্লাহুম্মা ইন কুনতা তালামু আন্না হাযাল আমরা খাইরুন লি ফি দিনি ওয়া মাআশি ওয়া আকিবাতি আমরি—আও কালা: আজিলি আমরি ওয়া আজিলিহি—ফাকদুরহু লি, ওয়া ইয়াসসিরহু লি, সুম্মা বারিক লি ফিহি।**
>
> **ওয়া ইন কুনতা তালামু আন্না হাযাল আমরা শাররুন লি ফি দিনি ওয়া মাআশি ওয়া আকিবাতি আমরি—আও কালা: ফি আজিলি আমরি ওয়া আজিলিহি—ফাসরিফহু আন্নি, ওয়াসরিফনি আনহু, ওয়াকদুর লিয়াল খাইরা হাইসু কানা, সুম্মা আরদিনি বিহি।**

*হাযাল আমরা* (hadha al-amra) মানে ‘এই বিষয়টি’। এখানে নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়টি উল্লেখ করুন বা মনে আনুন। ‘অথবা: এখনকার ও পরবর্তী পরিণতিতে’ কথাটি হাদিসে বর্ণিত শব্দের একটি ভিন্নতা বোঝায়; দুটি বিকল্পই বলতে হবে, এমন নয়।

**বাংলা অর্থ:**

> হে আল্লাহ, আপনার জ্ঞানের মাধ্যমে আমার জন্য উত্তম বিষয়টি বেছে দেওয়ার প্রার্থনা করছি। আপনার ক্ষমতার মাধ্যমে সামর্থ্য চাইছি এবং আপনার মহান অনুগ্রহ চাইছি। আপনি সক্ষম, আমি সক্ষম নই; আপনি জানেন, আমি জানি না; অদৃশ্য বিষয় আপনি জানেন।
>
> হে আল্লাহ, আপনি যদি জানেন যে এই বিষয়টি আমার ধর্ম, জীবিকা ও কাজের পরিণতির জন্য—অথবা আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য—কল্যাণকর, তবে এটি আমার জন্য নির্ধারণ করুন, সহজ করুন এবং এতে বরকত দিন।
>
> আর আপনি যদি জানেন যে এই বিষয়টি আমার ধর্ম, জীবিকা ও কাজের পরিণতির জন্য—অথবা আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য—অকল্যাণকর, তবে এটি আমার কাছ থেকে সরিয়ে দিন এবং আমাকেও এটি থেকে ফিরিয়ে দিন। যেখানেই কল্যাণ থাকুক, তা আমার জন্য নির্ধারণ করুন; তারপর তাতেই আমাকে সন্তুষ্ট করুন।

আরবি এখনও পড়তে না পারলে ধীরে ধীরে শিখুন। যে ভাষা বোঝেন, সে ভাষাতেও আল্লাহর কাছে পথনির্দেশনা চাইতে পারেন। নিজের পরিস্থিতিতে নামাজটি কীভাবে আদায় করবেন, সে বিষয়ে পরামর্শের জন্য বিশ্বস্ত স্থানীয় ইমাম বা আলেমকে জিজ্ঞেস করুন।

## ইস্তিখারার পর কী আশা করবেন

ইস্তিখারা ভবিষ্যৎ জানার পদ্ধতি নয়। এর মাধ্যমে আপনি নিজের সিদ্ধান্ত ও তার পরিণতিতে আল্লাহর পথনির্দেশনা চান; অজানা তথ্য জানা বা নিশ্চিত কোনো সংকেত পাওয়ার নিশ্চয়তা চান না।

স্বপ্ন দেখা **জরুরি নয়**। হঠাৎ মনে পূর্ণ নিশ্চয়তা আসার অপেক্ষাও করতে হবে না। তথ্য জোগাড় করুন, সিদ্ধান্তটি যুক্তিসংগত কি না ভাবুন, পরামর্শ নিন এবং সাধ্যমতো এগোন। কোনো সুযোগ তৈরি হওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে; তবে প্রতিটি ঘটনাকে পাঠোদ্ধার করার মতো সংকেত ভাববেন না।

বিয়ের কথা ভাবলে চরিত্র ও মানানসই হওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করুন। চাকরির কথা ভাবলে কাজ ও শর্তগুলো বুঝে নিন। সিদ্ধান্তে স্বাভাবিক সতর্কতা বজায় রেখেই দোয়া করুন।

## কখন দুই রাকাত নামাজ পড়া এড়িয়ে চলবেন?

নির্দিষ্ট কিছু সময়ে নফল নামাজ পড়া নিয়ে সুন্নি মাজহাবগুলোর মধ্যে মতভেদ আছে। আলোচ্য সময়গুলোর মধ্যে রয়েছে ফজরের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত, যোহরের আগে সূর্য যখন সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি থাকে এবং আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। ইস্তিখারার মতো নির্দিষ্ট কারণে পড়া নামাজের ক্ষেত্রেও মতভেদ আছে: কিছু আলেম যে ছাড় দেন, অন্যরা তা দেন না।

সম্ভব হলে এই সময়গুলোর বাইরে নামাজ পড়ুন। স্থানীয় [নামাজের সময়সূচি](https://qiblafind.net/bn/prayer-times) দেখুন; বিশেষ করে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের কাছাকাছি সময়ের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। সিদ্ধান্ত জরুরি হলে বা এখন নামাজ পড়তে না পারলে দোয়া করে পথনির্দেশনা চাইতে পারেন। নিজের পরিস্থিতিতে নামাজের বিষয়ে বিশ্বস্ত স্থানীয় আলেমকে জিজ্ঞেস করুন।

>
> **[নামাজের সময়সূচি](https://qiblafind.net/bn/prayer-times)**
>
> অবস্থান বেছে নিয়ে আজকের ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব, এশার সময় ও সূর্যোদয় দেখুন। গণনাপদ্ধতি ও আসরের সেটিং স্থানীয় মসজিদের সময়সূচির সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

## প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

### ইস্তিখারার পর কি স্বপ্ন দেখতে হবে?

না। জাবিরের বর্ণনায় নামাজ ও দোয়া শেখানো হয়েছে; সিদ্ধান্ত নেওয়ার শর্ত হিসেবে স্বপ্নের কথা বলা হয়নি (Sahih al-Bukhari 1166)। আপনার কাছে থাকা তথ্য ও পরামর্শ কাজে লাগিয়ে যথাসাধ্য ভালো সিদ্ধান্ত নিন।

### অন্য কারও সিদ্ধান্তের জন্য কি ইস্তিখারা পড়তে পারি?

আপনি অন্য ব্যক্তির জন্য আল্লাহর কাছে পথনির্দেশনা ও সাহায্য চাইতে পারেন। যিনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তিনিও নিজে ইস্তিখারা করতে এবং পরামর্শ নিতে পারেন। যৌথ সিদ্ধান্ত কীভাবে সামলাবেন বুঝতে না পারলে বিশ্বস্ত ইমামের সঙ্গে কথা বলুন; প্রয়োজনে [কাছের মসজিদ খুঁজে নিতে পারেন](https://qiblafind.net/bn/mosque-finder)।

### ফোন দেখে ইস্তিখারার দোয়া পড়তে পারি?

শেখার সময় ফোন দেখে দোয়াটি পড়তে পারেন। নামাজের *ভেতরে* তিলাওয়াত ও দোয়া করার রীতিতে মাজহাবভেদে পার্থক্য থাকতে পারে; এখানে দেওয়া ধাপ অনুযায়ী দোয়াটি দুই রাকাতের পরে পড়বেন।

### দুই বিকল্পই ভালো মনে হলে কী করব?

ইস্তিখারার পর সব অনিশ্চয়তা দূর হবে, এমন নয়। বিকল্পগুলো তুলনা করুন, বিষয়টি বোঝেন এমন কারও পরামর্শ নিন এবং দায়িত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত নিন। কোনো সংকেতের আশায় অনির্দিষ্টকাল দেরি না করে আবারও আল্লাহর কাছে পথনির্দেশনা চাইতে পারেন।

### দোয়ার সময় কি কিবলামুখী হতে হবে?

দুই রাকাত নামাজে *কিবলা* (qibla)—[মক্কায় অবস্থিত কাবার দিক](https://qiblafind.net/bn/blog/understanding-qibla)—মুখ করে দাঁড়ান। নামাজের পর দোয়া করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিককে শর্ত মনে করার প্রয়োজন নেই। নামাজের দিক যাচাই করতে চাইলে [কিবলা কম্পাস](https://qiblafind.net/bn/qibla-finder) ব্যবহার করুন।

>
> **[কিবলা ফাইন্ডার](https://qiblafind.net/bn/qibla-finder)**
>
> আপনার অবস্থান থেকে কিবলার দিক নির্ণয় করুন। GPS চালু না করেও শহর খুঁজতে পারেন। গণনা করা দিকটি আশপাশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন; কাছের ধাতু বা চৌম্বকীয় প্রভাবে ফোনের কম্পাস ভুল দেখাতে পারে।
