মানচিত্র আর নির্দেশিত দিক আলাদা মনে হয় কেন
কিবলার দিক শুরু হয় আপনার অবস্থান থেকে। ওই বিন্দুতে কাবার দিকে কোন দিকে মুখ ফেরাতে হবে, সেটিই নির্দেশ করে। সমতল বিশ্বমানচিত্রে সরাসরি মনে হওয়া রেখা পৃথিবীর বাঁকা পৃষ্ঠে অন্য পথ বোঝাতে পারে।
একটি গ্লোব ভাবুন। আপনার অবস্থান আর মক্কার মধ্যে পৃষ্ঠ বরাবর একটি সুতো টানটান করে ধরুন। সেটি একটি মহাবৃত্তের সংক্ষিপ্ততর চাপ অনুসরণ করে। মহাবৃত্তের কেন্দ্র পৃথিবীর কেন্দ্রেই থাকে। এবার শুরুর বিন্দুর কাছে চাপটি দেখুন। সেখান থেকে পথ যে দিকে বেরিয়েছে, মহাবৃত্তের হিসাবে পাওয়া প্রাথমিক দিক সেটিই। পথে আরও এগোলে কম্পাসের দিক বদলাতে পারে। একটি প্রাথমিক দিকের অর্থ পুরো যাত্রায় একই কম্পাসমুখী পথ ধরে চলা নয়।
বাঁকা পৃথিবীকে সমতলে দেখাতে মানচিত্রে রূপান্তর লাগে। তাতে আকার, ক্ষেত্রফল, দূরত্ব, দিক—একটি বা একাধিক বৈশিষ্ট্য বিকৃত হয়। দীর্ঘ দূরত্বে বিকৃতি বেশি চোখে পড়ে। তাই পর্দায় দুটি নামের মধ্যে স্কেল দিয়ে টানা রেখা, একা, কোন দিকে মুখ ফেরাতে হবে তা স্থির করতে পারে না।
শহরের উদাহরণ: নিউইয়র্ক সিটি
নিউইয়র্ক সিটি থেকে কাবার দিকে মহাবৃত্তের পথ শুরু হয় মোটামুটি উত্তর-পূর্বে। পরিচিত আয়তাকার বিশ্বমানচিত্রে মক্কাকে নিউইয়র্কের অনেক ডানে, কিছুটা দক্ষিণে দেখে দক্ষিণ-পূর্বে মুখ ফেরাতে ইচ্ছা হতে পারে। কিন্তু গ্লোবে সংক্ষিপ্ততর পথ আরব উপদ্বীপের কাছে পৌঁছানোর আগে আরও উত্তরের অক্ষাংশ দিয়ে যায়।
এটি প্রাথমিক দিকের উদাহরণ; নির্দিষ্ট ডিগ্রির হিসাব নয়। ‘নিউইয়র্ক’ লেখা প্রতিটি জায়গা থেকে দিক হুবহু এক হবে, এমন দাবিও নয়। আপনার শুরুর সঠিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। গ্লোবে দুটি জায়গা চিহ্নিত করুন, পৃষ্ঠের সংক্ষিপ্ততর চাপটি অনুসরণ করুন, তারপর নিউইয়র্ক থেকে সেটি প্রথমে কোন দিকে গেছে দেখুন।
ইউরোপেও একই বিভ্রান্তি হতে পারে। ছাপা পাতায় গন্তব্য কোথায় আছে, তা ইউরোপের সব শহর থেকে মহাবৃত্তের প্রাথমিক দিক নির্ভরযোগ্যভাবে জানায় না। নিউইয়র্কের দিক ইউরোপের কোনো স্থানে প্রয়োগ করবেন না। যেখানে নামাজ পড়বেন, সেখানকার অবস্থান থেকে দিক দেখুন।
মানচিত্রের সরলরেখা বিভ্রান্ত করতে পারে কেন
মানচিত্র তৈরির ভিন্ন প্রক্ষেপণে ভিন্ন রেখা সোজা দেখায়। প্রচলিত আয়তাকার বিশ্বমানচিত্রে একটি সরলরেখা পৃষ্ঠের সংক্ষিপ্ততর পথের বদলে কম্পাসে একই দিক ধরে চলার পথ বোঝাতে পারে। মহাবৃত্তের পথ সেখানে বাঁকা দেখাতে পারে; গ্লোবে সেটিই পৃষ্ঠ বরাবর একটি চাপ।
মানচিত্রের সীমানাও বিভ্রান্ত করে। বিশ্বমানচিত্রের ছবির শেষ প্রান্ত থাকে, পৃথিবীর তেমন প্রান্ত নেই। ছবির ওই প্রান্ত সরালে পাতায় দুটি জায়গা কখনো কাছে, কখনো দূরে মনে হতে পারে। পৃথিবীতে তাদের অবস্থান বদলায় না।
কাজের প্রশ্নটি ‘পর্দায় কাবার নাম আমার কোন দিকে?’ নয়; বরং ‘আমার অবস্থান থেকে কাবামুখী পথ প্রথমে কোন দিকে যায়?’ QiblaFind হিসাব কীভাবে উপস্থাপন করে, তার ব্যাখ্যার জন্য পদ্ধতি দেখুন। ভৌগোলিক প্রশ্নের সঙ্গে ধর্মীয় বিধানের প্রশ্ন এক করবেন না। ব্যক্তিগত বিধান জানতে স্থানীয় যোগ্য আলেমের পরামর্শ নিন।
গ্লোবের সঙ্গে দিক মিলিয়ে দেখুন
- ঘোরানো যায় এমন ইন্টারঅ্যাকটিভ গ্লোব বা বাস্তব গ্লোবে নিজের অবস্থান খুঁজুন। মক্কার কাবায় দ্বিতীয় চিহ্ন দিন। সম্ভব হলে দূরের শহরকেন্দ্রের বদলে নিজের প্রকৃত অবস্থান ব্যবহার করুন।
- দুটি চিহ্ন দেখা যায় এমনভাবে গ্লোব ঘোরান। পৃষ্ঠ বরাবর তাদের মধ্যে টানটান সুতো কল্পনা করুন। পৃথিবীর ভেতর দিয়ে বা পৃষ্ঠের ওপরের ফাঁকা জায়গা দিয়ে নয়—পৃষ্ঠের সংক্ষিপ্ততর চাপ অনুসরণ করুন।
- শুরুর চিহ্নটি ভালো করে দেখুন। গ্লোবের উত্তর দিককে ভিত্তি ধরে চাপটি প্রথমে কোন দিকে গেছে লক্ষ করুন। পৃথিবীর মাঝপথে পথটি কোন দিকে যাচ্ছে, তা দিয়ে প্রাথমিক দিক বিচার করবেন না।
- নিজের অবস্থানের জন্য QiblaFind খুলুন। সেখানে দেখানো দিকের সঙ্গে গ্লোবে দেখা প্রাথমিক দিক তুলনা করুন। অমিল মনে হলে আগে দেখুন, দুই জায়গায় শুরুর অবস্থান একই কি না; সমতল মানচিত্রের রেখাকে গ্লোবের পথ ধরে নিয়েছেন কি না।
এই মিলিয়ে দেখা দিকটি বুঝতে সাহায্য করে; নির্ভুল পরিমাপ নয়। গ্লোবে চিহ্নের অবস্থান আনুমানিক হতে পারে। কম্পাস ব্যবহার করলে তার পাঠের সঙ্গে ভৌগোলিক উত্তরের সম্পর্ক ও স্থানীয় ব্যাঘাতের প্রশ্নও আসে। মোটামুটি দেখে কোনো নির্দিষ্ট ডিগ্রির হিসাব ঠিক বা ভুল ঘোষণা করবেন না।
ফল এখনও ভুল মনে হলে
প্রথমে নির্বাচিত অবস্থান নিশ্চিত করুন। দিক নির্ভর করে শুরুর বিন্দুর ওপর, গোটা দেশের ওপর নয়। এরপর আপনার দেখা গ্লোব বা মানচিত্রে উত্তর কোন দিকে দেখুন। ঘোরানো দৃশ্যে সঠিক দিকও অপরিচিত লাগতে পারে। শেষে একই ধরনের বিষয় তুলনা করুন: মহাবৃত্তের প্রাথমিক দিক গ্লোবে পথের শুরুর অংশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন, সমতল মানচিত্রে টানা সরলরেখার সঙ্গে নয়।
অমিল থাকলে হিসাব সম্পর্কে সিদ্ধান্তের আগে QiblaFind-এর পদ্ধতি দেখুন। অপ্রত্যাশিত দিক যাচাই করা উচিত; শুধু সমতল মানচিত্রে সেটি অদ্ভুত দেখায় বলে দিকটি ভুল প্রমাণ হয় না।