ইসলামের ইতিহাস বলতে কেবল শাসক ও যুদ্ধের ইতিহাস বোঝায় না। প্রায় ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে নবী মুহাম্মদের (সা.) কাছে প্রথম ওহি আসার পর পশ্চিম আরবের একটি সমাজ থেকে ইসলাম নানা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ধর্মীয় শিক্ষা, রাজনীতি, জ্ঞানচর্চা, বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের জীবন—সবই এই ইতিহাসের অংশ।
নিচে কিছু তারিখ আনুমানিক। খ্রিষ্টাব্দ বলতে প্রচলিত সৌর বছরের গণনা বোঝানো হয়েছে। হিজরি বা AH হলো হিজরতের পর থেকে গণনা করা ইসলামি সন; চন্দ্রবর্ষ হওয়ায় একটি হিজরি বছর খ্রিষ্টীয় বছরের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
ইসলামের ইতিহাস: সংক্ষিপ্ত সময়রেখা
- প্রায় ৬১০ খ্রিষ্টাব্দ: মক্কায় মুহাম্মদের (সা.) কাছে প্রথম ওহি আসে।
- ৬২২ খ্রিষ্টাব্দ / ১ হিজরি: মদিনায় হিজরত; এই ঘটনা ইসলামি সনের সূচনাবিন্দু।
- প্রায় ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দ / ২ হিজরি: নামাজের কিবলা মক্কার কাবার দিকে পরিবর্তিত হয়।
- ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দ / ৮ হিজরি: মুসলিম সমাজ মক্কার নিয়ন্ত্রণ নেয়।
- ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ / ১১ হিজরি: মুহাম্মদ (সা.) ইন্তেকাল করেন; নেতৃত্বের প্রশ্ন সামনে আসে।
- ৬৩২–৬৬১ খ্রিষ্টাব্দ: প্রথম চার খলিফার সময়, যাঁদের সুন্নিরা খোলাফায়ে রাশেদিন বলেন।
- ৬৬১–৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ: দামেস্ক থেকে উমাইয়া শাসন।
- ৭৫০–১২৫৮ খ্রিষ্টাব্দ: আব্বাসীয় খিলাফত; তাদের ইতিহাসের বড় অংশে বাগদাদ ছিল কেন্দ্র।
- পরবর্তী শতকগুলো: আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপে বিভিন্ন রাজবংশ, সাম্রাজ্য ও স্থানীয় মুসলিম সমাজের বিকাশ।
- আজ: নানা ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় চর্চার মুসলিমরা বিশ্বজুড়ে বসবাস করেন।
এটি ইতিহাস বোঝার একটি সূচনা, বিরামহীন বিস্তারের একটিমাত্র গল্প নয়। শাসন বহুবার বদলেছে। বাণিজ্য, অভিবাসন, শিক্ষা ও স্থানীয় সম্পর্কের মাধ্যমেও মুসলিম সমাজ গড়ে উঠেছে।
ওহি ও প্রথম মুসলিম সমাজ
মুসলিমদের বিশ্বাস, আল্লাহ ফেরেশতা জিবরাইলের মাধ্যমে মুহাম্মদের (সা.) কাছে কুরআন নাজিল করেছেন। ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রথম ওহি আসে প্রায় ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে, মক্কায়। সেই ঘটনার সঙ্গে সাধারণত যে আয়াতগুলো যুক্ত করা হয়, সেগুলো পড়া বা তিলাওয়াতের নির্দেশ দিয়ে শুরু (Al-‘Alaq 96:1–5)।
মুহাম্মদ (সা.) মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদত, অভাবীদের যত্ন এবং নিজের কাজের জবাবদিহির কথা বলেন। মক্কায় প্রথম মুসলিমরা বিরোধিতার মুখে পড়েন। কেউ অন্যত্র আশ্রয় নেন; পরে নবী (সা.) ও তাঁর অনুসারীরা ইয়াসরিবে যান, যে শহর মদিনা নামে পরিচিত হয়।
মুসলিমদের কাছে কুরআন আল্লাহর ওহি। ইতিহাসবিদেরা প্রথম মুসলিম সমাজের সময় ও স্থান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, কিন্তু ইতিহাসের পদ্ধতি দিয়ে বিশ্বাসের প্রশ্নের নিষ্পত্তি হয় না। এই পার্থক্য মাথায় রাখলে সময়টিকে বুঝতে সুবিধা হয়।
হিজরত: ইসলামি সন কেন ৬২২ সালে শুরু
হিজরত অর্থ স্থানান্তর; এখানে ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদের (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় যাওয়াকে বোঝায়। সেখানে মুসলিম সমাজ ধর্মীয় ও সামষ্টিক জীবন গড়ে তোলার নতুন জায়গা পায়। কুরআনে এই সময় তাঁর এক সঙ্গীসহ যাত্রার উল্লেখ আছে (At-Tawbah 9:40)।
ইসলামি সন হিজরত থেকে বছর গণনা করে, তাই ৬২২ খ্রিষ্টাব্দ তার ১ হিজরি বছরের সূচনাবিন্দু। তবে সন হিসেবে এই গণনা চালু হয় উমর ইবনুল খাত্তাবের খিলাফতকালে। ইসলামি মাস চাঁদের হিসাবে চলে বলে এর তারিখগুলো সৌর বছরের ঋতুর তুলনায় সরে যায়। কোনো তারিখের হিজরি সমতুল্য দেখতে হিজরি ক্যালেন্ডার ও তারিখ রূপান্তরক ব্যবহার করতে পারেন।
হিজরতের গুরুত্ব কেবল বর্ষগণনায় নয়। এটি মক্কায় বিরোধিতার মুখে থাকা একটি দল থেকে মদিনায় সংগঠিত সমাজ হয়ে ওঠার বড় বাঁক। ইবাদত ও সামষ্টিক জীবনের অনেক বিকাশ এই মদিনা পর্বের সঙ্গে যুক্ত।
কিবলা পরিবর্তন ও মক্কায় প্রত্যাবর্তন
কিবলা হলো নামাজে মুখ করার দিক। প্রথম মুসলিমরা জেরুজালেমের দিকে মুখ করে নামাজ পড়তেন। মদিনায় কিবলা মক্কার কাবার দিকে পরিবর্তিত হয়—সাধারণভাবে ঘটনাটি প্রায় ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দ বা ২ হিজরির বলে ধরা হয়। কুরআনে পবিত্র মসজিদের দিকে মুখ ফেরানোর নির্দেশ আছে (Al-Baqarah 2:144)।
আজও মুসলিমরা নামাজে কাবার দিকে মুখ করেন। অবস্থানভেদে সেই দিক আলাদা হয়। নিজের অবস্থান থেকে দিক জানতে লাইভ কিবলা কম্পাস সহায়ক হতে পারে; দিকটি কীভাবে গণনা করা হয়, তা পদ্ধতির ব্যাখ্যায় দেওয়া আছে।
৬৩০ খ্রিষ্টাব্দ বা ৮ হিজরিতে মুহাম্মদ (সা.) ও মুসলিম সমাজ মক্কার নিয়ন্ত্রণ নেন। ইসলামি বর্ণনায় কাবা থেকে মূর্তি অপসারণের কথা আছে। মক্কা মুসলিম ইবাদতের কেন্দ্র থাকে—বিশেষত হজের জন্য, যা সামর্থ্য থাকলে মুসলিমদের পালন করতে হয়।
মুহাম্মদ (সা.) ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ বা ১১ হিজরিতে মদিনায় ইন্তেকাল করেন। তখন আরবের বড় অংশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর পর প্রশ্ন ওঠে: সমাজের নেতৃত্ব কে দেবেন, আর কোন ভিত্তিতে?
নেতৃত্বের উত্তরাধিকার ও প্রথম চার খলিফা
খলিফা বলতে মুসলিম সমাজের নেতৃত্বে উত্তরসূরিকে বোঝায়; নবী হিসেবে মুহাম্মদের (সা.) উত্তরসূরিকে নয়। সুন্নিরা প্রথম চার খলিফা—আবু বকর, উমর, উসমান ও আলীকে—খোলাফায়ে রাশেদিন বলেন। তাঁরা ৬৩২ থেকে ৬৬১ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে নেতৃত্ব দেন, যদিও প্রত্যেকের পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ ছিল আলাদা।
প্রথম নেতৃত্বের প্রশ্নে সুন্নি ও শিয়া মুসলিমদের অবস্থান ভিন্ন। সুন্নিরা আবু বকরকে প্রথম বৈধ খলিফা হিসেবে স্বীকার করেন। শিয়াদের মতে, মুহাম্মদের (সা.) চাচাতো ভাই ও জামাতা আলীরই নেতৃত্বের ন্যায্য অধিকার ছিল। বারো ইমামের অনুসারী শিয়াদের কাছে আলী প্রথম ইমাম—আল্লাহর দিকনির্দেশনাপ্রাপ্ত নেতা। পরে ধর্মীয় কর্তৃত্ব ও চর্চার বৃহত্তর ঐতিহ্যও গড়ে ওঠে; কোনো সম্প্রদায়ের ইতিহাসই শুধু এই একটি মতপার্থক্যে সীমাবদ্ধ নয়।
এই সময়ে মুসলিম শাসন আরবের বাইরে বিস্তৃত হয়, আবার অভ্যন্তরীণ সংঘাতও দেখা দেয়। উসমান নিহত হন; আলীর খিলাফত গৃহযুদ্ধে চিহ্নিত হয়। চার খলিফার সময় শেষ হওয়ার পর, ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে কারবালায় আলীর ছেলে হুসাইন নিহত হন। তাঁর মৃত্যু শিয়াদের কাছে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ; অন্য মুসলিমরাও তাঁকে স্মরণ করেন।
উমাইয়া, আব্বাসীয় ও জ্ঞানচর্চা
উমাইয়ারা ৬৬১ থেকে ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত দামেস্ক থেকে শাসন করেন। তাঁদের রাষ্ট্র উত্তর আফ্রিকা হয়ে আইবেরীয় উপদ্বীপে এবং পূর্বে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে বিস্তৃত ছিল। এত বড় অঞ্চলে প্রশাসন, ভাষা ও স্থানীয় জীবন একরকম ছিল না। রাজনৈতিক শাসন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে সবাই মুসলিম হয়ে যাননি; ধর্মান্তর ঘটেছে প্রজন্ম ধরে।
আব্বাসীয়রা ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে ক্ষমতায় এসে বাগদাদকে রাজধানী করেন। শহরটি শাসন, বাণিজ্য ও জ্ঞানচর্চার বড় কেন্দ্র হয়ে ওঠে। পরে বিভিন্ন অঞ্চলে অন্য রাজবংশের উত্থানে আব্বাসীয় রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়। ১২৫৮ খ্রিষ্টাব্দে মোঙ্গল বাহিনী বাগদাদ দখল করলে সেখানকার আব্বাসীয় খিলাফতের অবসান ঘটে—মুসলিম সমাজ বা জ্ঞানচর্চার নয়।
প্রায় অষ্টম শতক থেকে মুসলিম বিশ্বের নানা স্থানের পণ্ডিতেরা পূর্ববর্তী জ্ঞান অনুবাদ, অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা করেন এবং তাতে নতুন কাজ যোগ করেন। আরবি জ্ঞানচর্চার গুরুত্বপূর্ণ ভাষা হয়ে ওঠে, যদিও পণ্ডিতদের ভাষাগত ও ধর্মীয় পটভূমি ছিল বিচিত্র। গণিত, চিকিৎসা, ভূগোল ও জ্যোতির্বিদ্যার অগ্রগতি বহু শতক ধরে হয়েছে; এক অভিন্ন ‘স্বর্ণযুগে’ সীমিত ছিল না।
জ্যোতির্বিদ্যার ব্যবহারিক ধর্মীয় প্রয়োজনও ছিল। চাঁদ দেখে মাস নির্ধারণ, সূর্যের অবস্থান থেকে নামাজের সময় জানা এবং দূরবর্তী স্থান থেকে কিবলা বের করা—এসব নিয়ে কাজ হয়েছে। কিবলা নির্ণয়ে ভূগোল ও গোলাকার পৃথিবীর ওপর দিক গণনার গাণিতিক পদ্ধতি প্রয়োজন হয়। আজ ডিজিটাল কম্পাস অবস্থান থেকে একটি দিক গণনা করতে পারে, তবে দেখানো দিক ডিভাইসের সেন্সর ও অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্যের ওপরও নির্ভর করে।
পরবর্তী সাম্রাজ্য ও আঞ্চলিক ইতিহাস
আব্বাসীয় শক্তি কমে যাওয়ার পর কোনো একক সরকার সব মুসলিমের প্রতিনিধিত্ব করেনি। উসমানীয় সাম্রাজ্য আনাতোলিয়া থেকে বেড়ে কয়েক শতক ধরে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ, পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল শাসন করে; এর সুলতানি শাসন শেষ হয় ১৯২২ সালে। ষোড়শ শতকের গোড়ায় প্রতিষ্ঠিত সাফাভি সাম্রাজ্য ইরানে বারো ইমামের অনুসারী শিয়া ইসলামকে প্রধান ধারায় পরিণত করতে ভূমিকা রাখে। মুঘল সাম্রাজ্য ষোড়শ শতক থেকে ভারতীয় উপমহাদেশের বড় অংশ শাসন করে, যদিও সময়ের সঙ্গে তার বিস্তার ও শক্তি বদলেছে।
এগুলো বড় রাষ্ট্র ছিল, কিন্তু মুসলিম জীবনের একমাত্র কেন্দ্র নয়। ভারত মহাসাগরের বাণিজ্যপথে, আফ্রিকার জ্ঞানচর্চা ও স্থানীয় রাজ্যগুলোতে, এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দীর্ঘ ইতিহাসেও মুসলিম সমাজ গড়ে উঠেছে। কোনো অঞ্চলের অতীতকে শুধু সাম্রাজ্যের সময়রেখার ছোট সংযোজন হিসেবে দেখলে তা অসম্পূর্ণ থাকে।
উনিশ ও বিশ শতকে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শাসন বহু মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলকে প্রভাবিত করে। স্বাধীনতা আন্দোলন, নতুন রাষ্ট্র ও অভিবাসন পরে রাজনীতি এবং সামাজিক জীবনকে নতুন রূপ দেয়। সব অঞ্চলের অভিজ্ঞতা বা ফল এক ছিল না।
ইসলাম আজ
আজ মুসলিমরা নানা ধরনের সমাজে বসবাস করেন। কুরআন ও মুহাম্মদের (সা.) আদর্শ তাঁদের অভিন্ন প্রধান অবলম্বন; ভাষা, রীতি, ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক ইতিহাসে রয়েছে পার্থক্য। সুন্নি ও শিয়া—উভয় ঐতিহ্যের ভেতরেও বৈচিত্র্য আছে।
তাই ইসলামের ইতিহাস একই সঙ্গে একটি সময়রেখা এবং বহু অঞ্চলের নিজস্ব ইতিহাস। মক্কা ও মদিনার ঘটনাগুলো এর ভিত্তি; পরের শতকগুলোতে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইবাদত, জ্ঞানচর্চা, সংঘাত, পরিবর্তন ও নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা।
Frequently asked questions
ইসলামের শুরু কবে?
মুসলিমদের বিশ্বাস, ইসলামের বাণী আগের নবীদের শেখানো এক আল্লাহর ইবাদতের ধারারই অংশ। ইতিহাসে মুহাম্মদের (সা.) প্রচারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মুসলিম সমাজের শুরু সপ্তম শতকের আরবে; প্রথম ওহির সময় সাধারণত প্রায় ৬১০ খ্রিষ্টাব্দ ধরা হয়।
হিজরত থেকেই ইসলামি সন গণনা করা হয় কেন?
৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা থেকে মদিনায় মুহাম্মদের (সা.) হিজরত প্রথম মুসলিম সমাজের জন্য বড় বাঁক ছিল। পরে ইসলামি সনের সূচনাবিন্দু হিসেবে এই ঘটনাকে নেওয়া হয়; ৬২২ খ্রিষ্টাব্দ হলো ১ হিজরির শুরুর বছর।
মুসলিমরা কবে থেকে মক্কার দিকে মুখ করে নামাজ পড়েন?
মদিনা পর্বে কিবলা জেরুজালেম থেকে মক্কার কাবার দিকে পরিবর্তিত হয়। ঘটনাটি সাধারণত প্রায় ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দ বা ২ হিজরির বলে ধরা হয়। কুরআনে পবিত্র মসজিদের দিকে মুখ করার নির্দেশ আছে (Al-Baqarah 2:144)।
নেতৃত্বের উত্তরাধিকার নিয়ে সুন্নি ও শিয়া অবস্থানের পার্থক্য কী?
প্রথম দিককার মূল পার্থক্যটি মুহাম্মদের (সা.) মৃত্যুর পর নেতৃত্ব নিয়ে। সুন্নিরা আবু বকরকে প্রথম বৈধ খলিফা মানেন; শিয়াদের মতে, আলীরই সেই অধিকার ছিল। এই প্রশ্নের বাইরেও উভয় ঐতিহ্যের দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় ইতিহাস রয়েছে।
জ্ঞানচর্চার ‘স্বর্ণযুগ’ কি শুধু বাগদাদে সীমিত ছিল?
না। আব্বাসীয় আমলে বাগদাদ জ্ঞানচর্চার বড় কেন্দ্র ছিল, কিন্তু অন্যান্য শহর ও অঞ্চলও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিভিন্ন পটভূমির পণ্ডিতেরা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেছেন।